অন্যন্য

মোবাইলের নেশা কমানোর সেরা ১০ উপায়

মোবাইলের নেশা
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  

মোবাইলের নেশা কমান খুব সহজেই


মোবাইলের নেশাঃ আমাদের সবার হাতেই আজকাল  মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন। স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন অবশ্যই টেকনোলজির এক অনন্য আবিষ্কার এটা আমরা সকলেই জানি। আর এই স্মার্টফোন ব্যবহার করেই আমরা যে কারো সাথে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় বসে ভিডিও চ্যাট করতে পারি। এমনকি ইন্টারনেটে কানেক্ট হয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। স্মার্টফোন এর অনেক সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে। এবং এই অসুবিধার মধ্যে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি বেশ বড় আকার ধারণ করেছে সেটি হল “স্মার্টফোন আসক্তি”।

স্মার্টফোন এর নানা ফিচারের কারণে স্মার্টফোন আমাদের সারাক্ষণ ইন্টারনেটে আমাদের বন্ধুদের সাথে কানেক্টেড রাখে। এবং দেখা যায় ফেসবুক এর মত সোশ্যাল সাইটগুলো থেকে একটু পর পর এ নানা ধরনের নোটিফিকেশন আসে। এবং সেগুলো চেক করতেই আমরা ফেসবুক এ ঢুকি। এরকম ভার বার বার হতে হতে আমাদের একরকম অভ্যাস হয়ে যায় ফেসবুক চেক করার। আবার কেউ মেসেজ দিলে সেই ম্যাসেজ এর রিপ্লাই দিতে গিয়ে অনেক টাইম চলে যায়।

এই যুগে সবচেয়ে বেশি দামি জিনিস হল সময়। কারণ সময় একবার চলে গেলে আর কখন ফেরত পাওয়া যাবে না। আর যেহেতু আমরা স্মার্টফোনেই সবচেয়ে বেশি সময় দেই তাই আমাদের এই স্মার্টফোন আশাকরি আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার আগের থেকে অনেক কমে যাবে।

ভিডিও শেয়ারিং সাইটে কম সময় দিন

স্মার্টফোন বা মোবাইল থেকে আমরা হরহমেশাই ইউটিউব, ভিমিও এর মত অনেক ভিডিও শেয়ারিং সাইট গুলো দেখে থাকি। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে একবার কেউ ইউটিউবে ভিডিও দেখা শুরু করলে গড়ে তা কেউ ২ ঘন্টার মত করে সময় ব্যয় করেন/ তাহলে বুঝতেই পারছেন আমাদের কেন সবার ভিডিও শেয়ারিং সাইট থেকে সরে আসা উচিত। এতে করে আপনার মোবাইলের নেশা কেটে যাবে অনেক।

মোবাইলের নেশা কাটাতে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ধরবেন না

আমাদের দেশ ছারাও বিশ্বে একটি দৃশ্য প্রায় সময়ই দেখা যায় যে গাড়ি চালানোর সময় চালক তার মোবাইল ফোন টি হাতে নিয়েছেন। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন দেখা বা মোবাইল ফোনে কথা বলা খুবই বিপদজনক। এতে করে ঘটতে পারে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই গাড়ি চালানোর সময় হাতে অবশ্যই মোবাইল ফোন নিবেন না।

চাইলে আপনি এই এপ্স টি ব্যবহার করতে পারেন যখন আপনি গাড়ি চালাবেন- মোবাইল ফোন ড্রাইভারমোড

মোবাইলের নেশা কাটাতে টিভি দেখার সময় মোবাইল দূরে রাখুন

আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে টিভি দেখার সময় আমরা নিজেদের অজান্তে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। এতে করে আমাদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি আরো বেড়ে যায়। তাই টিভি দেখার সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখুন।

পড়ার সময় মোবাইল ধরবেন না

বই নিয়ে পরতে বসলেই আমাদের বার বার স্মার্টফোন এর কথা মনে পরে। তাই আমরা যখন পরতে বসি তখন ঠিকভাবে পরা হয় না। এছাড়াও অন্য যেকোনো জিনিস  পরতে বসলেও বার বার মনে হয় ফোনটা চেক করা দরকার। তাই আপনি যখন কোন কিছু করতে বসবেন তখন ফোন ব্যবহার করবেন না। এবং ফোনকে আপনার নাগালের বাইরে রাখুন। যেন আপনার স্মার্টফোনটি আপনার চোখে না পরে।

মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

আমরা বেশিরভাগ সময় ফোন চেক করি কারণ আমারা নোটিফিকেশন এর শব্দ পাই। তাই এই সমস্যা থেকে বাচতে অনেকেই মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখেন। কিন্তু এতে দেখা যায় জরুরি ফোন আসলে আমরা রিসিভ করতে পারি না। তাই ফোন সাইলেন্ট না করে নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখবেন।

এছাড়াও ইমেইল নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলেও কিছুটা সময় বাঁচবে। আপনি আন্ড্রয়েড এর অ্যাপ ম্যানেজার থেকে যেকোনো অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করতে পারবেন। এবং নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করার পর সাথে সাথে অ্যাপটির নোটিফিকেশন বন্ধ করে ফেলুন।

মোবাইল ফোন কতক্ষন চালাবেন তার একটি নির্দিষ্ট টাইম ঠিক করুন

আপনি যখনই ফোন হাতে নিবেন তখনই একটি নির্দিষ্ট টাইম সেট করে নিন। এবং সেই টাইম পর্যন্তই ফোন চালান। এতে আপনার বাড়তি সময় নষ্ট হবে না। এবং এভাবে টাইম সেট করে ফোন চালালে একসময় অভ্যাস হয়ে যাবে এবং আপনি আর বেশি টাইম একসাথে ফোন চালাবেন না। এই কাজ করার জন্য আন্ড্রয়েড এর একটি অ্যাপ আছে যার নাম কোয়ালিটি টাইম। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। এই অ্যাপ দিতে আপনি যেকোনো অ্যাপে কতক্ষণ থাকবেন তা ঠিক করে দিতে পারবেন।

বিরতি পেলেই ফোন চেক করা থেকে বিরত থাকুন

এই সমস্যাটি অনেকেরই আছে। যখন কেউ একটু সময় এর জন্য একটু বিরতি পায় কাজ থেকে তখন সে আর কিছু না করে মোবাইলটা একটু চেক করে। যেমন ১ মিনিট এর জন্য চেয়ার ছেরে উঠলেন বা কোন কারণে আপনার দুইটি কাজের মাঝখানে কিছু সময় ব্রেক আছে। তখন আপনি যদি ফোন চালান তাহলে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ টাইম নষ্ট হবে। কারণ স্মার্টফোন শুধু ১ মিনিট চালানো কার পক্ষেই সম্ভব না। তাই এই ফ্রী টাইমগুলোতে রেস্ট নিন। তাহলে আপনি পরবর্তী কাজ ভালভাবে করতে পারবেন।

ঘুমানোর সময় বিছানায় মোবাইল ব্যবহার করবেন না

বিছানায় যখন আপনি ঘুমাতে যান তখন ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এই অভ্যাস একবার হয়ে গেলে আপনার রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হবে। এছাড়াও কিছু অ্যাপের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট সময় এর জন্য যেকোনো অ্যাপ কে ব্লক করে দিতে পারবেন। ফলে ঐ সময় ঐ অ্যাপে আপনি ঢুকতে পারবেন না। তাই ফেসবুক এ যেই টাইম দিতেন সেটা আপনি অন্য কোন কাজে ব্যায় করতে পারবেন। আন্ড্রয়েড এর জন্য এমন একটি অ্যাপ হল অফ-টাইম। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

বার বার মোবাইল ফোন দেখা বন্ধ করুন

আমারা যখন ফোন ওপেন করে ফেসবুক, টুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপ এর নোটিফিকেশন একবার দেখি তখন শেষে আবার সবগুলো দেখতে ইচ্ছে করে। এতে দেখা যায় নতুন আবার আমাদের অনেক সময় চলে যায়। তাই কোন অ্যাপ চালানোর পর সাথে সাথে অ্যাপ থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এবং মাঝে মাঝে এই ধরনের অ্যাপগুলো আনইন্সটল করে দেখতে পারেন আপনি সেগুলো ছাড়া থাকতে পারেন কিনা।

মোবাইল ফোনের নেশা তারপরেও কমছে না?

উপরের কাজগুলো করার পরও যদি আপনার মোবাইলের নেশা না কমে তাহলে আপনার জন্য এটি বিরাট এক সমস্যা। তাই আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি সর্বনিম্ন কতক্ষণ ফোন চালন। তারপরে আসতে আসতে সেই টাইমটাকে কমিয়ে ফেলতে হবে। এবং ফোন এর বাইরে বেশি সময় দিতে হবে। খেলাধুলা করতে হবে। বই পরতে হবে। এবং যত পারেন আপনার স্মার্টফোন এর কথা ভুলে থাকবেন। এবং যখন প্রয়োজন হবে না তখন ওয়াইফাই বা নেট কানেকশন বন্ধ করে রাখবেন। এতেও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আপনার টাইম নষ্ট করতে পারবে না।

আশাকরি উপরের পদ্ধতি-গুলো প্রয়োগ করে আপনি স্মার্টফোন এর প্রতি আসক্তি দূর করতে পারবেন। এটি একদিনে করা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করতে থাকুন। এবং টিউনটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই টিউন কেমন লাগলো তা অবশ্যই টিউমেন্ট করে জানাবেন। সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  

এইরকম আরো খবরঃ